রাজশাহী, মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
◈ রাজশাহীতে অজ্ঞাত ভাইরাসে দুই শিশুর মৃত্যু : আইইডিসিআরের পরিদর্শন, বাবা-মাকে ছাড়পত্র ◈ দিঘলিয়া থানায় ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত ◈ হাতীবান্ধায় পরপর তিন দিনে পাশাপাশি তিনটি খড়ের গাদায় আগুন ◈ সিরাজগঞ্জে বিএসটিআইয়ের অভিযানে ফ্লাওয়ার মিলকে মামলা ও জরিমানা ◈ ট্রাকের পিছনের চাকায় পৃষ্ঠ হয়ে মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু ◈ তানোরে পুকুর খননের মাটিতে পাকা রাস্তা নষ্ট এলাকায় উওেজনা ◈ রাজশাহীর ডিবি পুলিশ কর্তৃক ২০০ গ্রাম হেরোইন-সহ গ্রেফতার: ৩ ◈ নওগাঁর ডলফিন এনজিও‘র মালিক আব্দুর রাজ্জাকসহ ০৬ জন কে যৌথ অভিযানে আটক ◈ আল-কোরআন হাফেজদের ব্যতিক্রমী বিদায় সংবর্ধনা ◈ হাতে ভাজা দেশি মুড়ি গ্রামীন জনপদ থেকে বিলুপ্তির পথে

ভোট নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলেছে তারা শাস্তি পেয়েছেঃপ্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : 03:24 PM, 12 January 2022 Wednesday

বাংলার সকাল নিউজ ডেস্কঃ

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার নিয়ে অতীতে যারা ছিনিমিনি খেলেছে, তারা শাস্তি পেয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ তাদের ক্ষমতা থেকে হটিয়েছে। আজ আওয়ামী লীগ পরপর তিনবার সরকারে আসতে পেরেছে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে।

জনগণের ভোটে যদি নির্বাচিত না হতাম, তাহলে তিনবার আমরা সরকারে আসতে পারতাম না। ১৩ বছর পূরণ করতে পারতাম না। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়নের চাকাটা যে গতিশীল থাকে তা প্রমাণিত।

মঙ্গলবার বিকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পর যারা হত্যা ক্যুর ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল, তারা দেশকে কী দিয়েছিল? অনেকে গালভরা বুলি দিয়েছে, গণতন্ত্র দিয়েছি! কিন্তু কী গণতন্ত্র? আজ নির্বাচন নিয়ে যারা কথা বলে, প্রশ্ন তোলে, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন-পঁচাত্তরের পর সংবিধান লঙ্ঘন করে মার্শাল ল জারি করে ক্ষমতা দখল করা হয়েছিল।

একটা নয়, ১৯/২০ বার ক্যু হয়েছে সেনাবাহিনীতে। তার ফলাফলটা কী? মুক্তিযোদ্ধা, সৈনিক, অফিসার, রাজনৈতিক নেতাদের হত্যা ও গুম করা হয়েছে। এরপর রাজনীতি করার শখ হয়। সেই খায়েশ মেটানোর জন্য মিলিটারি ডিকটেটররা প্রথমে হ্যাঁ-না ভোট হয়।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের হ্যাঁ-না ভোটে কি কারও না করার ক্ষমতা ছিল? সবই তো হ্যাঁ ভোট পড়ার ছিল। তারপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সামরিক বাহিনীর রুলস-রেগুলেশনে একজন সেনাপ্রধান কখনো নির্বাচন করতে পারে না। কিন্তু একদিনে সংবিধান লঙ্ঘন করে অন্যদিকে সেনাবাহিনীর রুলস ভঙ্গ করে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে উর্দি পরে ক্ষমতায় বসে। একদিকে সেনাবাহিনী প্রধান, একদিকে স্ব-ঘোষিত রাষ্ট্রপতি! অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী। সেই নির্বাচনে জনগণ কি ভোট দিতে পেরেছিল? সেখানে ভোট ছিল কোথায়? তারপর আবার দল গঠন করা হলো। ক্ষমতায় বসে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ঠ বিলিয়ে দল গঠন করা। সেই দলেরই নাম হচ্ছে বিএনপি।

শেখ হাসিনা বলেন, এরপর আসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বহু আগে থেকেই ঘোষণা দেয় আওয়ামী লীগ ৪০টার বেশি সিট পাবে না। তখন শুধু সরকারি পত্রিকাই ছিল। সেখানে সেটাই লেখা হয়েছিল। ১৯৪৯ সালে জন্ম নেওয়া সংগঠন আওয়ামী লীগ।

যে সংগঠনের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ-সেই সংগঠন এরকম ভোট পাবে, সেটা কি করে হতে পারে? কিন্তু সেই ঘটনাই বাংলাদেশে ঘটেছিল। তাহলে সেই নির্বাচনের খেলাটা কী ছিল? ওই নির্বাচন তো জনগণের ভোটে হয়নি। অবৈধভাবে দখল করা ক্ষমতাকে বৈধ করার জন্য সংসদে এক-তৃতীয়াংশ মেজরিটি নিয়ে সেটাকে বৈধ করার প্রচেষ্টা ছিল।

১৯৮১ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অকথ্য নির্যাতন হয়। ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। মানুষ হত্যা করা হয়। এরপর ছিয়াশির নির্বাচনে ৪৮ ঘণ্টা নির্বাচনের রেজাল্ট বন্ধ করে তা পালটে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ছিয়ানব্বই সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের কথা মানুষ ভুলে যায় কীভাবে? যারা আমাদের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলে, ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তাদের আমি জিজ্ঞাসা করি-ছিয়ানব্বই সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কেমন নির্বাচন করেছিল?

কত শতাংশ ভোট পড়েছিল? ৪ শতাংশ ভোটও পড়েনি। সব জায়গায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করে ভোটের বাক্স সিল দিয়ে ভরে। এরপরও খালেদা জিয়া নাকি তৃতীয়বারের প্রধানমন্ত্রী! কিন্তু জনগণের ভোট চুরি করেছিল বলে কী হয়েছিল তার পরিণতি, গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল। আন্দোলন ও সংগ্রাম হয়েছিল।

এর মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া বাধ্য হয়েছিল পদত্যাগ করতে। আজ যারা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাদের আমি স্মরণ করাতে চাই ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও খালেদা জিয়ার পদত্যাগের কথা। তাদের তৃতীয়বারের প্রধানমন্ত্রী তো তিন মাসও ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। কারণ ভোট চুরির অপরাধে নাকে খত দিয়ে তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।
শেখ হাসিনা বলেন, এরপর ছিয়ানব্বই সালের ১২ জুন নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। সেখানেও অনেক বাধা এসেছিল। কিন্তু আমরা সরকার গঠন করেছিলাম। বাংলাদেশের মানুষের স্বর্ণযুগ এসেছিল।

দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি পায়। রাস্তাঘাট, পুল, ব্রিজ নির্মাণসহ অনেক কাজ আমরা করি। আমি এতকিছু বলতে চাই না, শুধু স্মরণ করাতে চাই এদেশের নির্বাচনের খেলা। এরপর ২০০১ সালের নির্বাচন। আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করেছিল।

জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে। ভোটের শতকরা হারেও আওয়ামী লীগ অনেক এগিয়েছিল। কিন্তু সেখানে বড় একটা চক্রান্ত হয়েছিল। ফলে আমাদের সিট পেতে দেওয়া হয়নি। পরবর্তী সময়ে আমরা সেসব তথ্য সংগ্রহ করি-কোন কোন সিট আমাদের দেওয়া হবে আর কোনটা দেওয়া হবে না। তার কারণ ছিল আমাদের প্রাকৃতিক গ্যাস।

২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে হারানোর জন্য অনেক ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব কথা কি কারও মনে আছে? যারা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তারা ভুলে যান কেন? আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সারা দেশে কেউ ঘরে থাকতে পারেনি। তাদের পিটিয়ে ঘরছাড়া করা হয়।

অকথ্য অত্যাচার করা হয়। আওয়ামী লীগের ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে দেওয়া হয়নি। হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়। চোখ তুলে নেওয়া হয়, হার ভেঙে দেওয়া হয়। আঙুল কেটে নেওয়া হয়। ঘরবাড়ি দখল করে সেখানে পুকুর কাটা হয়।

বিএনপি ক্ষতায় থাকতে পুরো সময়টা এই অত্যাচার করেছে। এটা করতে গিয়ে বাংলাভাই, জঙ্গিবাদ তৈরি করেছে। আর বাংলাদেশকে পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে। তারা দুর্নীতি করেছে, একই সঙ্গে কোটি কোটি টাকা বানিয়ে দেশের বাইরে পাচার করেছে।

তিনি বলেন, যারা আজকে দুর্নীতি খোঁজে তাদের বলব- ২০০১ সাল থেকে কি দুর্নীতি হয়েছে, সেটা দেখুন। যারা ঋণখেলপি খোঁজেন তাদের বলব- জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পরে এলিট শ্রেণি তৈরি করার জন্য যে ঋণখেলাপি কালচার তৈরি করেছিলেন, সেই খবরটা আগে নেন।

আওয়ামী লীগ ভালো কাজ করলেই তার বিরুদ্ধে লেগে থাকা, এটা এক শ্রেণির মানুষের অভ্যাস। যারা এ দেশের স্বাধীনতা চায়নি। যারা খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করে বাংলাদেশকে ও দেশের উন্নয়নকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে চেয়েছিল, তাদের কিছু প্রেতাত্মা এখনো সমাজ ও রাজনীতিতে আছে। তারাই এগুলো করে বেড়াচ্ছে। শুধু এখানে নয়, বিদেশিদের কাছে নালিশ করে বেড়াচ্ছে।সূত্র যুগান্তর

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক বাংলার সকাল'কে জানাতে ই-মেইল করুন- banglarsakal24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক বাংলার সকাল'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২৪ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক বাংলার সকাল | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT