রাজশাহী, সোমবার ০৪ মার্চ ২০২৪, ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
◈ বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর সাথে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ ◈ বাঘায় আম বাগান ও ফসলি জমিতে পুকুর খননের হিড়িক, প্রশাসন নিরব ◈ ভুল চিকিৎসার কারণে ডাক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে সাংবাদিকের মামলা ◈ রাজশাহীতে কিশোর গ্যাংয়ের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার ◈ সাংবাদিক রেজাউল করিমের শ্বশুরের মৃত্যুতে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের শোক ◈ লালমনিরহাটে ব্যাতিক্রমী গল্পকথার বই মেলা শুরু ◈ রাজধানীর বেইলি রোডের অগ্নিকান্ডে শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ◈ রাজশাহীতে তরুনীকে উদ্ধার করলো পিবিআই ◈ রাজশাহী স্যানেটারি ব্যবসায়ী মালিক সমিতির বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত ◈ খুলনায় মাসব্যাপী একুশে বইমেলার সমাপনী মেলায় ৪ কোটি ৭৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার বই বিক্রি
বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি

বিভাজনের পথ পরিহার করে শান্তির পথে চলুন

প্রকাশিত : 06:14 AM, 5 December 2021 Sunday

বাংলার সকাল নিউজ ডেস্কঃ

বিভাজনের পথ পরিহার করে, হাতে হাত রেখে শান্তির পথে এক সঙ্গে চলার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ওয়ার্ল্ড পিস কনফারেন্স-২০২১’ এর উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি এ সময় শান্তিপূর্ণ, ন্যায়সঙ্গত, অধিকারভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে বাংলাদেশের ‘অক্লান্ত প্রচেষ্টা’র কথা তুলে ধরেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের অংশ হিসাবে দুদিনব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড পিস কনফারেন্স’র আয়োজন করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ শান্তি সম্মেলনে বিশ্বের ৫০টি দেশের থিংকট্যাংক প্রতিনিধি, লেখক, কবি, সংগীতশিল্পী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ভার্চুয়ালি ও সশরীরে যোগ দিচ্ছেন।

উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন শান্তি সম্মেলন আয়োজক কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। বক্তব্য দেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুন, পূর্ব তিমুরের সাবেক প্রেসিডেন্ট নোবেল বিজয়ী হোসে রামোস-হোর্তা, ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহণ, রেলওয়ে, বাণিজ্য ও শিল্পবিষয়ক সাবেক মন্ত্রী সুরেশ প্রভাকর প্রভু, মিসরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আরব লীগের সাবেক মহাসচিব আমর মুসা, ওয়ার্ল্ড ইসলামিক ইকোনমিক ফোরাম ফাউন্ডেশনের সাবেক চেয়ারম্যান এবং মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক ফেডারেল মন্ত্রী তান সি দাতো সেরি সৈয়দ হামিদ আলবার এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের গণহত্যা প্রতিরোধবিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা অ্যালিস ওয়াইরিমু এনদেরিতুও, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা শান্তি বজায় রাখতে অত্যন্ত আন্তরিক এবং যেকোনো মূল্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা, বজায় রাখা ও জোরদার করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বাস করে যে, বিশ্বব্যাপী শান্তি বজায় থাকাই জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সর্বোত্তম সুরক্ষা। আর শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংঘাতে সমাধান এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি বজায় রাখতে আমরা আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।’

বর্তমানে বিশ্ব প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ মহামারি ও সংঘাতের মতো বহু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, ‘যত দিন পর্যন্ত আমরা একতাবদ্ধ হতে এবং পারস্পরিক শান্তি ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে না পারব, তত দিন আমাদের সন্তান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বিশ্ব নিশ্চিত করতে পারব না। এ বিশ্ব ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের সম্মুখীন হচ্ছে।’

রাষ্ট্রপতি জাতি, বর্ণ ও ধর্মভিত্তিক সব ধরনের বৈষম্যের অবসান এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, একই বিশ্বের বাসিন্দা হিসাবে সব মানুষেরই অভিন্ন দায়িত্ব রয়েছে এবং বিশ্বের সব মানুষের জন্য একটি ন্যায্য আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা জরুরি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা মনে করি বিশ্বের সর্বত্রই শান্তি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হবে। শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় থাকা আমাদের জীবনে অত্যন্ত প্রয়োজন। শান্তি সহিংসতা বা ভীতি থেকে স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়।’

৫০ বছর আগে বাংলাদেশের জন্মের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রায় ৩০ লাখ শহিদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। স্বাধীনতার পরপরই, শান্তির প্রবক্তা বঙ্গবন্ধু একটি সংবিধান প্রবর্তন করেন যা দেশের সব নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা দেয়, আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির প্রচার নিশ্চিত করে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বৈরিতা নয়।’

শান্তি প্রতিষ্ঠার অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে বিশ্ব শান্তি পরিষদ ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ব শান্তির প্রতীক হিসেবে জুলিও-কুরি পুরস্কার প্রদান করে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এতে বিশ্ববন্ধুতে পরিণত হয়েছেন।’

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিশ্বজুড়ে শান্তিপূর্ণ, ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের জন্য তার দৃষ্টিভঙ্গির রূপরেখা উপস্থাপন করেন এবং বিশ্বব্যাপী বৈষম্য ও অবিচার কীভাবে আন্তর্জাতিক শান্তির প্রতি হুমকি হয়ে ওঠে তা তুলে ধরেন।সূত্র যুগান্তর

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক বাংলার সকাল'কে জানাতে ই-মেইল করুন- banglarsakal24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক বাংলার সকাল'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২৪ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক বাংলার সকাল | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT