রাজশাহী, মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
◈ রাজশাহীতে অজ্ঞাত ভাইরাসে দুই শিশুর মৃত্যু : আইইডিসিআরের পরিদর্শন, বাবা-মাকে ছাড়পত্র ◈ দিঘলিয়া থানায় ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত ◈ হাতীবান্ধায় পরপর তিন দিনে পাশাপাশি তিনটি খড়ের গাদায় আগুন ◈ সিরাজগঞ্জে বিএসটিআইয়ের অভিযানে ফ্লাওয়ার মিলকে মামলা ও জরিমানা ◈ ট্রাকের পিছনের চাকায় পৃষ্ঠ হয়ে মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু ◈ তানোরে পুকুর খননের মাটিতে পাকা রাস্তা নষ্ট এলাকায় উওেজনা ◈ রাজশাহীর ডিবি পুলিশ কর্তৃক ২০০ গ্রাম হেরোইন-সহ গ্রেফতার: ৩ ◈ নওগাঁর ডলফিন এনজিও‘র মালিক আব্দুর রাজ্জাকসহ ০৬ জন কে যৌথ অভিযানে আটক ◈ আল-কোরআন হাফেজদের ব্যতিক্রমী বিদায় সংবর্ধনা ◈ হাতে ভাজা দেশি মুড়ি গ্রামীন জনপদ থেকে বিলুপ্তির পথে

দেশে কেউ দরিদ্র থাকবে না, সবাই সমৃদ্ধ জীবন পাবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : 09:51 PM, 20 December 2021 Monday

Private: মো.মাইনুর রহমান

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, দেশের কাউকে দরিদ্র থাকবে দেব না, সবাই উন্নত-সমৃদ্ধ জীবন পাবে।

সোমবার(২০ ডিসেম্বর)বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ডিপ্লোম্যাটিক এক্সিলেন্স পুরস্কার-২০২০ প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাবেক রাষ্ট্রদূত সাইদ মোহাম্মদ আল মেহরি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. খুরশেদ আলম (অব:) এবার এ পদক পান। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন পদক তুলে দেন।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার নেতৃত্বে আমরা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। তার লক্ষ্য ও আদর্শ ছিলো সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকে এই নীতি অনুসরণ করে যাচ্ছি। আমাদের সরকারের আমলে দেশের আর্থ-সামাজিক খাতে যেমন উন্নয়ন হচ্ছে। ঠিক তেমনি প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে যাচ্ছি। তাছাড়া আমরা সমগ্র বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে অবদান রেখে যাচ্ছি।

সরকারপ্রধান বলেন, মিয়ানমারের নির্যাতনে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আমরা আশ্রয় দিয়েছি। আমি আশাকরি বিশ্বের সকল মানুষের শান্তি ও মানবাধিকার যেন রক্ষা পায়। এক্ষেত্রে আমরা সকলের সহযোগিতা কামনা করি।

বাংলাদেশ সমৃদ্ধ ও উন্নীতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে। এটা আমাদের নীতি ও আদর্শ। জাতির পিতা আমাদের যে আদর্শ ও সংবিধান দিয়ে গেছেন। সেখানে আমাদের যে চার মূলনীতি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। সেই নীতি মেনেই দেশের উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছি।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষকে আর দরিদ্র থাকতে দেব না। দেশের মানুষ ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত হবে। উন্নত, সমৃদ্ধ জীবন পাবে। জাতির পিতার সেই পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি। আদর্শ ধারণ করছি। স্বাধীনতার লক্ষ্য ও আদর্শ অর্জন করার জন্য আমরা ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

‘মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের ফসল প্রতিটি মানুষের ঘরে পৌঁছাবে। দেশের প্রতিটি মানুষ খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান ও উন্নত জীবন পাবে। এটাই ছিলো জাতির পিতার লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছি। এটাই আমাদের বড় অর্জন। আমরা বাংলাদেশকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি আমরা অর্জন করবো ২০৩০ সালে মধ্যে। পাশাপাশি আমাদের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার জন্মদিনে কোনো বই কিংবা আমার কোনো চাওয়া পাওয়া নাই। আমি কিছুই চাই না। আমার জন্য কিছু করা হোক এটাও আমার কামনা না। কারণ আমি জাতির পিতার আদর্শ বুকে ধারণ করে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোঁটাবার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করেছি। আমার কোনো চাওয়া পাওয়া নেই। কারণ আমিতো আমার বাবা, মা, ভাই সব হারিয়েছি।

তিনি বলেন, আমি একটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যত কষ্ট, আঘাত, বাধা আসুক না কেন। যে স্বপ্ন নিয়ে আমার বাবা এই দেশ স্বাধীন করেছে। তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই হবে। বাংলাদেশ হবে ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত। দারিদ্র ও মঙ্গা বলতে দেশে কিছু থাকবে না। দেশের প্রতিটি মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচবে এবং উন্নত জীবন পাবে। সেটাই আমার লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য স্থির রেখেই আমার পথ চলা। আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। ইনশাআল্লাহ একদিন উন্নত দেশ হিসাবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

এসময় পচাত্তর পরবর্তী সরকারগুলোর সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে মেরিটাইম বাউন্ডারি নিয়ে আইন করে যান। মিয়ানমারে সঙ্গে আলোচনা করে সমুদ্রসীমা নিয়ে কিছু সিদ্ধান্ত দিয়ে যান। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পরে সরকারগুলো এসেছিলো। তাঁরা এই ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেন নাই।

তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে কিভাবে এই সমুদ্রসীমা বাস্তবায়ন করতে পারি তার ব্যবস্থা নিই। আমরা আনক্লজ সই করি। এবং দ্বিতীয়বার সরকারের আসার পরে আমাদের প্রচেষ্টা এই সমস্যা সমাধানের। ঠিক যেভাবে ভারতের সঙ্গে আমরা সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন করেছি। যেটা মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি। সেই সঙ্গে সঙ্গে মেরিটাইম বাউন্ডারি নিয়েও উদ্যোগ গ্রহণ করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বন্ধুত্ব রেখেও আমরা মেরিটাইম বাউন্ডারি সমস্যার সমাধান করেছি। এটা আমাদের কূটনৈতিক সাফল্য। তাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানাই।

পদক বিজয়ী দুই জনকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, প্রতি বছর এই পদক প্রদানের মাধ্যমে আমাদের কূটনীতিকগণ নিজ নিজ অবস্থান থেকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে অনুপ্রাণিত হবেন। পাশাপাশি, আমাদের বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর কূটনীতিকগণও তাদের স্ব-স্ব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন শিখড়ে উন্নীত করতে উৎসাহিত হবেন।’

‘আমরা চাই সকলের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকুক। আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ এগিয়ে যাক। বাংলাদেশ হবে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা যেখানে ক্ষুধা ও দারিদ্র থাকবে না। মানুষের দুঃখ, কষ্ট দুর হবে। উন্নত জীবন পাবে। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, কার্যনির্বাহী সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক বাংলার সকাল'কে জানাতে ই-মেইল করুন- banglarsakal24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক বাংলার সকাল'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২৪ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক বাংলার সকাল | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT