রাজশাহী, সোমবার ০৪ মার্চ ২০২৪, ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
◈ রাজশাহীতে কিশোর গ্যাংয়ের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার ◈ সাংবাদিক রেজাউল করিমের শ্বশুরের মৃত্যুতে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের শোক ◈ লালমনিরহাটে ব্যাতিক্রমী গল্পকথার বই মেলা শুরু ◈ রাজধানীর বেইলি রোডের অগ্নিকান্ডে শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ◈ রাজশাহীতে তরুনীকে উদ্ধার করলো পিবিআই ◈ রাজশাহী স্যানেটারি ব্যবসায়ী মালিক সমিতির বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত ◈ খুলনায় মাসব্যাপী একুশে বইমেলার সমাপনী মেলায় ৪ কোটি ৭৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার বই বিক্রি ◈ রাজশাহীতে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি’র অবস্থান কর্মসূচি পালন,বরেন্দ্র ভবন ঘেরাও ◈ হাতীবান্ধায় ঘুষের ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনিয়ে ভাঙচুর ◈ র‍্যাবের অভিযানে  তানোরে চাঞ্চল্যকর  হত্যাকান্ডের  ০৫ আসামীকে ঢাকা ও কক্সবাজার থেকে গ্রেফতার!

ইউনেস্কো পুরষ্কার পেলো বাংলাদেশের যে মসজিদ

প্রকাশিত : 02:56 PM, 4 December 2021 Saturday

Private: মো.মাইনুর রহমান

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাকে মসজিদের নগরী হিসেবে অনেকে অভিহিত করে থাকে। এই শহরে রয়েছে অসংখ্য অনেক প্রাচীন মসজিদ।
সম্প্রতি জাতিসংঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে ঢাকার কাছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অবস্থিত প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদ।বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
ইউনেস্কোর এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অফিস থেকে অনলাইনে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল, ফিজি থেকে শুরু করে কাজাখাস্তান পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের শ্রেষ্ঠ কাজগুলোকে প্রতিবছর স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো। সেজন্য এ পুরস্কারের নাম দেয় হয়েছে ‘এশিয়া-প্যাসিফিক অ্যাওয়ার্ডস ফর কালচারাল হেরিটেজ কনসারভেশন’।

২০২১ সালে ছয়টি দেশের নয়টি স্থাপনাকে এ স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ‘অ্যাওয়ার্ড অব মেরিট’ ক্যাটাগরিতে স্বীকৃতি পেয়েছে কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদ।
বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, চীন, জাপান, মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ডের বিভিন্ন স্থাপনা ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে।
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অবস্থিত এই মসজিদ নির্মিত হয় ১৮৬৮ সালে। কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর ইউনিয়নে এই মসজিদ অবস্থিত। ১৮৬৮ সালে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। তখনকার জনসংখ্যার বিবেচনায় এটি ছোট আকারে নির্মাণ করা হয়েছিল।

এরপর মসজিদটি একাধিকবার সম্প্রসারণ করা হয়েছিলো। কালের পরিক্রমায় এই মসজিদের অবকাঠামো ক্ষয়িষ্ণু হয়ে যাচ্ছিলো। কয়েক বছর আগে মসজিদটিকে সংস্কার করে পুরনো রূপ দেয়ার উদ্যোগ নেন সেখানকার সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ এ সংস্কার কাজের নেতৃত্ব দেন এবং ২০১৮ সালে এর সংস্কার কাজ শেষ হয়। পুরনো মসজিদের পাশেই নির্মাণ করা হয় নতুন আরেকটি মসজিদ। পুরনো মসজিদটি এখন লাইব্রেরি এবং মক্তবে রূপান্তরিত হয়েছে।
ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ আবেদন করেন। ইউনেস্কো এক বিবৃতিতে বলেছে, এসব স্থাপনার মাধ্যমে ঐতিহ্যের যে বৈচিত্র্য ধরে রাখা হয়েছে সেটি সত্যিই প্রশংসার বিষয়।
যেসব স্থাপনা পুরস্কার পেয়েছে সেগুলোতে টেকসই উন্নয়নের নানা দিক রয়েছে বলে ইউনেস্কো বলছে। এছাড়া পুরনো স্থাপনাগুলোর সংরক্ষণ ঠিকমতো হয়েছে কি না সেটি বিশ্লেষণ করে দেখে ইউনেস্কোর বিশেষজ্ঞ কমিটি।

স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ জানালেন, সে মানদণ্ড পূরণ করতে পেরেছে দোলেশ্বর হানাফিয়া মসজিদ।

পুরনো স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যক্তি এবং বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগকে উৎসাহ দেয় ইউনেস্কো। সেজন্য ২০০০ সাল থেকে এ পুরষ্কার চালু করেছে ইউনেস্কো। স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ বলেন, সাধারণত বাংলাদেশে পুরনো মসজিদ ভেঙ্গে নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হয়। এক্ষেত্রে পুরনোটা রেখে নতুনটা তৈরি করা হয়েছে। পুরনোটাকে একেবারে আদি অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

দেড়শ বছর আগে চুন-সুরকি দিয়ে এই মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল। স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ গণমাধ্যমকে জানালেন, এ মসজিদকে পুরনো রূপ দেয়ার জন্য চুন-সুরকি দিয়ে সংস্কার করতে হয়েছে।

মসজিদটি সংস্কারের উদ্যোক্তা বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ গণমাধ্যমকে বলেন, দেড়শ বছর আগে এই মসজিদটি নির্মাণের সঙ্গে তার পূর্বপুরুষদের ভূমিকা ছিল। আমাদের লক্ষ্য ছিল, পুরনোকে সঙ্গে নিয়ে নতুনের কথা বলা।স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ বলেন, এ অঞ্চলের মসজিদগুলো আরব দেশের মসজিদগুলোর চেয়ে ভিন্ন ধাঁচের।

তিনি আরও বলেন, আমাদের পুরনো মসজিদগুলোতে কোথাও মিনার পাবেন না। মিনার বলতে বাঙালিরা সে রকম কিছুই চিনতো না। যেভাবে চুন-সুরকি দিয়ে অবকাঠামো নির্মাণ করা হতো সেটিও অন্যদের তুলনায় ভিন্ন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক বাংলার সকাল'কে জানাতে ই-মেইল করুন- banglarsakal24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক বাংলার সকাল'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২৪ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক বাংলার সকাল | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT