রাজশাহী, মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
◈ রাজশাহীতে অজ্ঞাত ভাইরাসে দুই শিশুর মৃত্যু : আইইডিসিআরের পরিদর্শন, বাবা-মাকে ছাড়পত্র ◈ দিঘলিয়া থানায় ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত ◈ হাতীবান্ধায় পরপর তিন দিনে পাশাপাশি তিনটি খড়ের গাদায় আগুন ◈ সিরাজগঞ্জে বিএসটিআইয়ের অভিযানে ফ্লাওয়ার মিলকে মামলা ও জরিমানা ◈ ট্রাকের পিছনের চাকায় পৃষ্ঠ হয়ে মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু ◈ তানোরে পুকুর খননের মাটিতে পাকা রাস্তা নষ্ট এলাকায় উওেজনা ◈ রাজশাহীর ডিবি পুলিশ কর্তৃক ২০০ গ্রাম হেরোইন-সহ গ্রেফতার: ৩ ◈ নওগাঁর ডলফিন এনজিও‘র মালিক আব্দুর রাজ্জাকসহ ০৬ জন কে যৌথ অভিযানে আটক ◈ আল-কোরআন হাফেজদের ব্যতিক্রমী বিদায় সংবর্ধনা ◈ হাতে ভাজা দেশি মুড়ি গ্রামীন জনপদ থেকে বিলুপ্তির পথে

করোনা মহামারির দুঃসময়ে সরকারের পাশাপাশি বিত্তশালীদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান:প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যুক্ত হয়ে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে আর্থিক সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

প্রকাশিত : 07:45 AM, 3 May 2021 Monday

বাংলার সকাল নিউজ ডেস্কঃ

করোনা মহামারির দ্বিতীয় ধাক্কার এই দুঃসময়ে সরকারের পাশাপাশি বিত্তশালীদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে বিরোধী দলগুলোর যারা সমালোচনা করছেন, মহামারির মধ্যে তারা নিজেরা কতজনকে সাহায্য করেছেন, সেই হিসাব পত্রিকায় দিন। প্রতিদিন যারা ‘সরকার উৎখাতের’ জন্য বক্তৃতা বিবৃতি দেয়, মহামারির এই দুঃসময়ে মানুষের পাশে তাদের ‘দেখা যাচ্ছে না’।

করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে রোববার এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ভোলা, জয়পুরহাট ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রান্তে উপস্থিত জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কয়েকজন উপকারভোগীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন। গণভবন থেকে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ডক্টর আহমদ কায়কাউস।

এই কার্যক্রমের আওতায় করোনাভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, দিনমজুর, শ্রমিক, গৃহকর্মী, রিকশা ও ভ্যানচালক, মোটরশ্রমিক, কর্মহীন বিভিন্ন পেশার ক্ষতিগ্রস্ত ৩৬ লাখ ৫০ হাজার পরিবার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে আড়াই হাজার টাকা

করে নগদ অর্থ সহায়তা পাবেন। আগামী তিন দিনের মধ্যে নগদ, বিকাশ, রকেট এবং শিউরক্যাশের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)-এর মাধ্যমে জিটুপি (গর্ভনমেন্ট টু পার্সন) ভিত্তিতে এ নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে।

এরই মধ্যে এই উপহার দেওয়ার জন্য ৯১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। উদ্বোধনের প্রথম দিনে ২২ হাজার ৮৯৫ পরিবার এই অর্থ সহায়তা পেয়েছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, এখন আমরা বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ যারা ভাসমান মানুষ, নির্মাণ শ্রমিক, গণপরিবহণ শ্রমিক, ফেরিওয়ালা, দিনমজুর, ঘাট শ্রমিক, নরসুন্দরসহ যারা দৈনিক আয়ের ভিত্তিতে জীবিকা নির্বাহ করেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার অসহায় মানুষ, তাদের আমরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নগদ সহায়তা দিচ্ছি। এটা অন্য কেউ টাকা-পয়সা এদিক ওদিক করতে পারবে না।

করোনা মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগ সব সময় দেশের জনগণের পাশে থাকে। সেটা ক্ষমতায় বা বিরোধী দল যে অবস্থানেই থাকুক না কেন। আমরা সব সময় চিন্তা করি কীভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াব, মানুষকে সহযোগিতা করব। আওয়ামী লীগ তার (জাতির পিতার) পদাঙ্ক অনুসরণ করেই কাজ করে যাচ্ছে। সব সময় দুর্গত মানুষের পাশে কিন্তু আওয়ামী লীগ আছে। আমাদের ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগসহ প্রত্যেকেই কিন্তু এই করোনা মহামারিতে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যেখানে করোনায় সারা বিশ্ব আক্রান্ত। খুব স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব কিছুতেই একটা ভাটা পড়ে গেছে। অর্থনৈতিকভাবে অনেক উন্নত দেশও হিমশিম খাচ্ছে। সেখানেও প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের ছোট ভূখন্ডে অধিক জনসংখ্যা। কীভাবে এই জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা দেওয়া যায়, অপর দিকে তাদের খাদ্যের ব্যবস্থা, তাদের জীবনটাকে সচল রাখার ব্যবস্থা, সেটা কীভাবে করা যায় আমরা সেই প্রচেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছি। সেকারণে এই অসহায় বঞ্চিত মানুষের পাশে আমরা দাঁড়িয়েছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর তারা ভেবেছিল, আওয়ামী লীগ আর কখনো ক্ষমতায় আসতে পারবে না। অপরাধ কী ছিল? আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল। এটাই তো অপরাধ ছিল?

আওয়ামী লীগ আবার সরকারে ফেরার পর এ দেশের মানুষ আবার ‘সেবা পাচ্ছে’ উলেস্নখ করে তিনি আরও বলেন, ‘এ দেশের মানুষ যদি কিছু পেয়ে থাকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই পেয়েছে। এ দেশটার উন্নতি কীভাবে করতে হবে এটা আওয়ামী লীগ জানে, আওয়ামী লীগই করে যাচ্ছে।’

সমালোচকদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকার এটা করেনি, ওটা করেনি বলে যারা সমালোচনা করছে তাদের কাছে আমরা প্রশ্ন নিজে কয়টা লোককে সাহায্য করেছেন? তার একটা হিসাব পত্রিকায় দিয়ে দেন। তাহলে মানুষ আস্থা পাবে, বিশ্বাস পাবে। সেটা হচ্ছে বাস্তবতা। হঁ্যা আমি ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি। একটা মাত্র টেলিভিশন ছিল। আমি বেসরকারি খাতে প্রচুর টেলিভিশন, রেডিও করে দিয়েছি। কয়েকটা পত্রিকা ছিল, এখন অনেক পত্রিকা হয়েছে। এখন তারা বেশ ঘরে বসে বসে বিবৃতিই দিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের কাজ শেষ হলে বুদ্ধিজীবীদের বুদ্ধির দুয়ার খোলে। কিছু বুদ্ধিজীবী আছে তারা যখন পরামর্শ দেন তার আগেই কিন্তু আমাদের সরকার আওয়ামী লীগ এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে নেয়। মানুষের জন্য কী করতে হবে, করোনাভাইরাসের টিকা কিনতে হবে কি না, মানুষকে কীভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিতে হবে- এইসব কাজ যখন আমরা গুছিয়ে নিয়ে আসি, আমাদের বাজেট আমরা কীভাবে করব, বাজেটে কোন কোন খাতকে আমরা বেশি গুরুত্ব দেব এগুলো যখন আমাদের করা শেষ হয়ে যায় তখন তাদের বুদ্ধির দুয়ারটা খোলে।’

বিরোধী দলের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠী বা দল বা যারাই আছেন প্রতিদিন কীভাবে সরকার উৎখাত করবে সেই চিন্তা-ভাবনা করেন তাদের কিন্তু এটা করতে হলে বা শক্তিশালী বিরোধী দল গড়তে হলে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। মানুষের বিশ্বাস, আস্থা অর্জন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে, অন্যকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। টিকা নেওয়া সত্ত্বেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন।

শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১০ কোটি টাকা সহায়তা

করোনা মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা, ভূমি ও গৃহহীনদের ঘর নির্মাণের জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১০ কোটি টাকা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘?জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর পক্ষ থেকে এ টাকা দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তার জন্য ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ কোটি টাকা এবং ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পুনর্বাসনে ৫ কোটি টাকা দেন।

১৯৯৪ সালের ১১ এপ্রিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বেগম ফজিলাতুননেছার দুই জীবিত উত্তরাধিকারী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট গঠন করেন। শেখ হাসিনা ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক বাংলার সকাল'কে জানাতে ই-মেইল করুন- banglarsakal24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক বাংলার সকাল'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২৪ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক বাংলার সকাল | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT